
বলা হয়ে থাকে সাস্থ্যই সকল সুখের মূল। শরীর ঠিক তো সব ঠিক। শরীর ঠিক রাখতে দরকার প্রয়োজনীয় নানা ধরনের পুষ্টি। শরীরে পুষ্টি কমে যাওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং দেখা দেয় নানান ধরণের অসুখ-বিসুখ । আজকের আলোচনায় আমরা জানবো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কি , কোন কোন উপসর্গ দেখা দিলে বুঝব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আমাদের করণীয় কী ?
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কি , কাকে বলে ?
ক্ষতিকারক বিভিন্ন জীবাণু ও বিষাক্ত পদার্থকে বাধা দেয়ার জন্য মানব শরীরের একটি স্বাভাবিক ক্ষমতা রয়েছে। একে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম বলে। ইমিউন সিস্টেম যত বেশি হবে, রোগ বা অসুস্থতার ঝুঁকি তত কমে যাবে। আর যদি মানব শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে তাহলে যে কোন রোগ হতে মুক্তি পেতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার লক্ষণ :
খাবার খেলে ত্বক জ্বালা, চুলকানির মতো অসস্থি শুরু হয় , চোখ থেকে সবসময় জল পড়তে থাকে, শরীরে সব সময় ক্লান্তি ভাব থাকে, পেটের সমস্যা হটাৎ হটাৎ বেড়ে যায়, বছরের অধিকাংশ সময় জ্বর, ঠান্ডা, কাশি এ সবকিছু দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতার লক্ষণ।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকরী উপায় :
মানব শরীরে যার যত বেশি প্রতিরোধ ক্ষমতা তার রোগ তত কম। মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্ভর করে ভিটামিন এবং মাইক্রোট্রিয়েন্ট এর উপর। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবন যাপনের পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিজ্ঞানীরা। মানুষ সাধারণত শর্করা , প্রোটিন, এবং ফ্যাট বা চর্বি জাতীয় খাবার খায়। কোন ধরনের খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে তা নিচে দেয়া হল -
১. দুগ্ধজাত খাবার - দই , ঘোল , ছানা ইত্যাদি দুগ্ধজাত খাবারগুলো বিজ্ঞানের ভাষায় প্রোবায়োটিক্স হিসেবে পরিচিত। দুগ্ধজাত খাবারগুলো মানব শরীরের পাকস্থলির আবরণের ভেতরে থাকা বেশ কিছু উপকারী জীবাণুকে বাঁচিয়ে রাখে। বাংলাদেশের একজন চিকিৎসক হাসান শাহরিয়ার কল্লোল বলেন, পাকস্থলীতে যদি উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে যায় তখন সেখানে ক্যান্সার বাসা বাঁধতে পারে।
২. ভিটামিন 'বি ', 'সি', 'ডি' এবং ই জাতীয় খাবার -
ভিটামিন সি- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি দারুণ কার্যকর। এগুলো পানিতে মিশে যাওয়ার কারণে প্রসাবের সাথে বেরিয়ে যায়। মানবদেহের ভেতরে বিক্রিয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ সেলগুলিকে সারিয়ে তুলতে ভিটামিন সি দারুণ কাজ করে। এছাড়াও শরীরের নার্ভ এর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার জন্যেও কাজ করে এই ভিটামিন। ভিটামিন সি মানবদেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট। ত্বক,দাঁত,চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে পাশাপাশি হৃদরোগ, ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। শরীরে কোলাজেন তৈরী ও ক্ষত সারাতে কাজ করে। লেবু,কমলালেবু,আমড়া,জাম্বুরা,পেয়ারা,আমলকি,কাঁচামরিচ, পেঁপে ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে। পূর্ণ বয়স্ক পুরুষের দৈনিক ৯০ মিলিগ্রাম এবং নারীর ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি দরকার। যেহেতু মানবদেহ ভিটামিন সি জমা করে রাখতে পারে না, তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন গ্রহণ করা
প্রোটিন- প্রোটিন শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা বাড়ায়। রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি যোগায়। শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ গ্রাম করে প্রোটিন প্রয়োজন। অর্থাৎ কারো ওজন যদি ৬৮ কেজি হয়, তাহলে প্রতিদিন তার ৬৮-৭০ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন দরকার। ডিম, মাছ, মুরগির মাংসে প্রোটিন পাওয়া যায়।
তরল খাবার- তরল খাবার গ্রহণের ফলে দেহে ফ্লইডের ঘাটতি পূরণ হয়। এবং শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায়।স্যুপ, ক্লিয়ার স্টক, ফলের রস বা শরবত ডিটোক্স জুস ইত্যাদি। সকালে খালি পেটে বেশি পরিমাণে পানি পান করাও শরীরের জন্য অনেক উপকারী।
সুপার ফুড
রসুন - রসুনের প্রয়োজন আমাদের নিত্যদিন। রসুন যে শুধুমাত্র খাবারের স্বাদই বৃদ্ধি করে তা নয়। রসুন হল পিঁয়াজ জাতীয় একটি ঝাঁজালো সবজি রান্নার মশলা ও ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রসুনে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা ভাইরাস প্রতিরোধের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সর্দি কাশির হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যায়। নিয়মিত রসুন খেলে রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। রসুন কাঁচা খাওয়া উপকারী। কাঁচা রসুন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক জনিত আক্রমণ প্রতিহত করতে বেশ কার্যকরী।
আদা: মসলা জাতীয় ফসলের মধ্যে আদা অন্যতম। খাদ্য পানীয় তৈরিতে, খাদ্য শিল্পে, আচার, সুগন্ধি এবং ঔষধ তৈরিতে এর ব্যবহার করা হয়। আদা ইনফ্লামেশন ও ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়। বিশেষ করে ফুসফুস এবং সাইনাসের ক্ষতি হতে দেয় না। শরীর উষ্ণ এবং ক্ষতি করতে বাধা প্রদান করে। সাধারণ সর্দি এটি দারুন কাজ করে।
হলুদ: হলুদে রয়েছে কারকিউমিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। হলুদ ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং লিভার ভালো রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও যেকোন ধরনের সংক্রমনের সাথে লড়তে সাহায্য করে।
গ্রিন টি -ওজন কমাতে গ্রিন টি কিভাবে কাজ করে তা আমরা কমবেশি সবাই জানি। এতে রয়েছে ক্যাটেটিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহের জন্য খুবই উপকারী।
আমাদের উচিত রোগকে প্রতিকারের চেয়ে আগ থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা। আমাদের দৈনন্দিন আদর্শ জীবন -যাপন পদ্ধতি মেনে চলা।


No comments:
Post a Comment