ক্লান্ত লাগাটা এক ধরনের রোগ। এমন কথা শুনলে অনেকেই আঁতকে উঠে। কেননা, এমন সমস্যা রয়েছে আমাদের অনেকেরই। কেন আমাদের ক্লান্ত অনুভব হয় ? নিজে এই রোগে আক্রান্ত কি-না ? পরিত্রানের উপায় কি ? এসব আমাদের জানা প্রয়োজন। না হলে সমস্যার সমাধান হবে কীভাবে ?
কর্মময় জীবন আমাদের। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা অবধি রয়েছে হাজারো কর্মব্যস্ততা। রাতটুকু আমাদের বিশ্রামের জন্য। এর মধ্যে আবার কেউ কেউ রাতে কাজ করে এবং দিনের বেলা বিশ্রাম করে। এভাবেই চলে আমাদের ব্যস্তময় জীবন। ব্যস্তময় দিনে ক্লান্ত লাগা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে,বেশিরভাগ সময়ই যদি আমাদের ক্লান্ত অনুভব হয় তাহলে বুঝতে হবে এটা স্বাভাবিক না, এটা অবশ্যই একটা রোগ।
শরীর ও মনে ক্লান্তি লাগার বেশ কিছু কারণ -
১. ঘুম- কমবেশি সকলেরই আমাদের এটা জানা যে, শরীর সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন পর্যাপ্ত ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বয়সভেদে মানবদেহের জন্য ঘুমের তারতম্য রয়েছে। নৈমিত্তিক জীবনে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ক্লান্ত লাগে। একজন স্বাভাবিক মানুষের ৬ ঘন্টা সতেজ ঘুমের প্রয়োজন। নবজাতকদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১৮ ঘন্টা ঘুম দরকার। আবার যাদের বয়স ১৩-১৯ বছর, তাদের প্রতিরাতে ১০ ঘন্টা ঘুমানো উচিত।
২.খাদ্যাভাস -শরীরে ক্লান্তি লাগার সাথে খাদ্যাভাস ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এমন অনেকেই আছেন যারা নিয়মমাফিক খাবার গ্রহন করে না বা অতিরিক্ত কাজের চাপে সময়ের খাবার অন্য সময় খেয়ে নেয়। আবার অনেকেই যখন খিদে পায় তখনই খেয়ে নেয়। এভাবে আসলে শরীর সঠিকভাবে বা সময়মত পুষ্টি পায় না। ফলে শরীরে কর্মশক্তি কমতে থাকে এবং ক্লান্তি লাগে। সঠিক খাদ্যাভাসে সঠিক পরিমানে ক্যালোরি পাওয়া যায়।
৩.ওজন-শরীরের ওজন যখন বেড়ে যায় বা শরীরের ওজন যাদের বেশি তারা অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পরে। ওজন বেশি হবার কারণে যেকোনো কাজে তাদের বেশি শক্তি ক্ষয় হয়। শরীরের ওজনের উপর নির্ভর করে শরীরের কর্মশক্তি।
৪.মানসিক চাপ -কমবেশি সবাই আমরা মানসিক চাপের সাথে পরিচিত। শরীর ক্লান্ত লাগা বা অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পেছনে মানসিক চাপ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানসিক চাপের বিভিন্ন উৎস রয়েছে। যেমন-পরিবার থেকে দূরে থাকা , পারিবারিক কলহ , বেকার থাকা , অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা , চাকরি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের প্রেসার , দাম্পত্য জটিলতা , প্রিয়জনের মৃত্যু ইত্যাদি।
৫.ডায়াবেটিস - ক্লান্তি লাগা ডায়াবেটিসের একটি গুরুতর উপসর্গ। রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া বা ওঠানামার কারণে শরীরে ক্লান্তি দেখা দেয়।
৬.থাইরয়েডের সমস্যা- যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের মধ্যে ক্লান্তির এই সমস্যা খুবই দেখা দেয়। মাথা ঘোরা, হটাৎ ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া ,গাঁটের ব্যথা , পেশির ব্যথা ইত্যাদি থাইরয়েডের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে।
৭.রক্তস্বল্পতা- শরীরের ক্লান্তি বা অবসাদগ্রস্ততার অন্যতম একটি কারন হচ্ছে রক্তস্বল্পতা । আমাদের দেহে রক্তের হিমোগ্লোবিন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের ক্ষেত্রে ১৩.৮ থেকে ১৭.২ গ্রাম/ডেসিলিটার , মহিলার ক্ষেত্রে ১২.১ থেকে ১৫.১ গ্রাম/ডেসিলিটার এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১১ থেকে ১৬ গ্রাম/ডেসিলিটার থাকা দরকার ।
আমরা মনের জোরে হয়তোবা দিনের পর দিন এভাবে চালিয়ে নিতে পারবো তবে আমাদের উচিত হবে ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ নেয়া।



No comments:
Post a Comment