Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

Sunday, March 24, 2024

তরমুজের সেরা ৯ টি স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কথা




তরমুজ গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে অন্যতম। পানিতে পরিপূর্ণ ফলটি খেতেও অনেক সুস্বাদু। লোকজনের কাছে তরমুজের চাহিদাও অনেক। বিশেষ করে সূর্যের তাপ যেদিন বেশি থাকে এই ফলটির কদর আরো বেড়ে যায়। তরমুজ মানবশরীরের অনেক উপকারে আসে। লাইকোপেন, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় ফলটি থেকে। তরমুজে প্রায়ই ৯২ শতাংশ পানি রয়েছে। ফলে গরমের দিনে ক্লান্তি ও ডিহাইড্রেশন দূর করতে জুড়ি নেই রসালো এই তরমুজের। তাই তরমুজ খেলে কোন কোন উপকারিতা মিলবে তা আমাদের প্রত্যেকেরই জানা উচিত ।

তরমুজে রয়েছে লাইকোপেন নামক একটি উপাদান। যা সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। এর কারণেই তরমুজের রং লাল হয়। এছাড়াও তরমুজে থাকা অ্যামিনো এসিড রক্তচাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা বলছে, তরমুজ খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।

১. কিডনি ভালো রাখতে :
তরমুজে থাকা অধিক পরিমাণে পানীয় উপাদান কিডনির উপর চাপ কমিয়ে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমায়। কিডনি ও লিভার সুস্থ রাখতে তরমুজ অনেক উপকারী। তরমুজের রস কিডনির বর্জ্য মুক্ত করে। পানি কম পান করার কারণে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কিডনিতে পাথর হ’লে ডাক্তারগণ ডাবের পানির পাশাপাশি নিয়মিত তরমুজ খাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ মেনে তরমুজ খেতে হবে।


২. শরীরের পানি স্বল্পতা পুরুন করে:
আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের পানি প্রয়োজন। তরমুজে ৯২ শতাংশ পানি রয়েছে, যা দেহের দৈনিক তরলের চাহিদা পূরণে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে।অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো ঠিকমতো কাজ করতে দরকার শরীরে পর্যাপ্ত পানির জোগান বা শরীরকে সিক্ত রাখা।তরমুজের পানি শরীরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে । শরীরের তাপমাত্রার নিয়ন্ত্রণ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম, কোষে পুষ্টি প্রবেশের মতো বিষয়গুলো নির্ভর করে পর্যাপ্ত পানি বা তরল গ্রহণের ওপর। অতিরিক্ত গরমের সময় শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায়, এ সময় তরমুজ খেলে শরীরের পানির অভাব দূর হয়।  শরীরও  সুস্থ ও সতেজ থাকে।


৩. পুষ্টিকর উপাদানে সমৃদ্ধ:
পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ ,বি৬ ও ভিটামিন ‘সি’র মতো পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। ভিটামিন এ, বি৬ এবং সি যা ত্বককে নরম, মসৃণ এবং কোমল রাখতে সহায়তা করে। এই ফলের সবচেয়ে বড় গুন এতে ক্যালোরির পরিমাণ অনেক কম। প্রতি ১৫২ গ্রাম তরমুজে ৪৬ ক্যালোরি রয়েছে। এটি পানিতে পরিপূর্ণ হবার ফলে নিয়মিত এটা খেলে ত্বক উজ্জ্বল ও টানটান থাকে।
এটি চর্বিমুক্ত, কোলেস্টেরলমুক্ত এবং এতে কোনও সোডিয়াম নেই। ফলে ডায়েট চার্টের জন্য দুর্দান্ত সংযোজন হতে পারে মিষ্টি তরমুজ।

১০০ গ্রামের একটি পাকা তরমুজে পানি রয়েছে ৯২ থেকে ৯৫ গ্রাম, আমিষ ০.৫ গ্রাম, আঁশ ০.২ গ্রাম,  চর্বি ০.২ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মি.গ্রাম, ক্যালোরি ১৫ থেকে ১৬ মি.গ্রাম,  আয়রণ ৭.৯ মি.গ্রাম, কার্বহাইড্রেট ৩.৫ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.২ গ্রাম, ফসফরাস ১২ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ০.২ মিলিগ্রাম। তাছাড়া ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ও ভিটামিন বি-২ রয়েছে।


৪. হৃৎপিণ্ডের যত্নে :
বিশেষজ্ঞদের জরিপ অনুযায়ী, তরমুজে থাকা কয়েকটি বিশেষ উপাদান হার্টের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও, দেহের কোলেস্টেরল কমাতে ভিটামিন এ-এর পাশাপাশি ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও কেরোটিন খুবই কার্যকরী। দেহে কোলেস্টরেল কম থাকার কারণে আমাদের হৃদপিন্ড সবসময় যে কোন রকমের বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষিত থাকে। সঠিকভাবে হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরমুজ হৃদযন্ত্রে সঠিকভাবে রক্তপ্রবাহে সহায়তা করে। ফলে হৃদযন্ত্রে ব্লক হওয়ার প্রবণতা অনেকটা হ্রাস পেয়ে থাকে।


৫. চোখের যত্নে:
তরমুজে আছে অধিক পরিমাণে ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন যা আমাদের চোখের রেটিনার সুরক্ষিত রাখতে, রাতকানা রোগ প্রতিরোধে অধিক কার্যকর এবং এই উপাদানগুলো চোখের ছানি পড়তে বাধা সৃষ্টি করে। আমাদের চোখের জ্যোতি বাড়াতে তরমুজে থাকা ভিটামিন এ অনেক উপকারী। এক টুকরো মাঝারি তরমুজে ভিটামিন এ এর পরিমান ৯ থেকে ১১ শতাংশ । এই ভিটামিন চোখকে সুস্থ রাখার অন্যতম উপাদান । বয়সজনিত দৃষ্টিশক্তি লোপ একটি সাধারণ সমস্যা যা থেকে বয়স্করা অন্ধত্বের শিকার হতে পারেন। লাইকোপেন প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ভূমিকা রাখায় এটি বয়সজনিত দৃষ্টিশক্তি লোপ হওয়া প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। যদিও এ বিষয়ে খুব বেশি গবেষণা হয়নি। 

৬. ত্বক ভালো রাখে :
ত্বক সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে তরমুজে থাকা ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘সি’  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভিটামিন ‘সি’ ত্বককে কোমল ও চুল শক্ত করে। অপরদিকে ভিটামিন ‘এ’ ত্বকে নতুন কোষ গজানোর পাশাপাশি কোষের ক্ষতিপূরণে সাহায্য করে । তরমুজে বিদ্যমান ভিটামিন সি ত্বককে সজীব রাখে। পাশাপাশি ত্বকের যে কোন সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায্য করে।


৭. হজমে সহায়ক:
তরমুজে রয়েছে অল্প পরিমাণে আঁশ ও প্রচুর পরিমানে পানি।  এ দুটিই স্বাভাবিক হজমে সাহায্য করে। 
আঁশ মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে আর পানি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থগুলোকে নিষ্কাশনে সহায়তা করে।


৮. মেছতা দূর করে :
বিশেষজ্ঞরা বলেন, তরমুজে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ রয়েছে যা শরীরের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। আর তাই গরমে নিয়মিত তরমুজ খাওয়া হলে আপনার ত্বক হবে আরো উজ্জ্বল ও হারানো লাবণ্য ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক।

৯. হাড়ের যত্নে: 
আর আমরা সবাই জানি ক্যালসিয়াম হাড়কে মজবুত ও সুস্থ রাখে। তরমুজ লাইকোপিনো নামক লাল উপাদান যাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। তাই তরমুজ হাড় গঠন ও মজবুত করতে সহায়ক। আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড় দুর্বল হতে থাকে তাই এ অভাব পূরণে তরমুজ খেলে তা হাড়ের গঠন সুস্থ ও মজবুত করতে খুবই সহায়ক।


১০. স্বাভাবিক রক্তচাপ:

তরমুজে থাকা প্রচুর 
ম্যাগনেশিয়াম ও পটাসিয়াম আমাদের দেহের রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। 

১১. শক্তি বৃদ্ধি করে : 
যারা শারীরিকভাবে দুর্বল তাদের জন্য তরমুজ প্রাকৃতিক ওষুধ হিসাবে খুব ভাল কাজ করে। এই ফল শারীরিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত তরমুজ খেলে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায়। বয়স বাড়লে শরীরের শক্তি হ্রাস পায়, তাই শরীরের শক্তি বৃদ্ধির জন্য মৌসুমে বেশী করে তরমুজ খাওয়া দরকার। 

১২. শরীরের চর্বি কমায় :
তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এমাইনো এসিড, যা শরীরের কোলেস্টরেল ও চর্বি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া তরমুজে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট, যা শরীরের জমে থাকা কোলেস্টরেল কমাতে সহায়তা করে। 



No comments:

Post a Comment

Post Top Ad